দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা ও রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার নিহত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনো কার্যকরভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের জটিল ক্ষমতা কাঠামো তার কার্যকারিতা বজায় রেখেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থাটি এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করে। ফলে একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীলতা তুলনামূলক কম।
সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন
খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে তার বাবার মতো পূর্ণ কর্তৃত্ব এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। রেভল্যুশনারি গার্ডের সমর্থনের ওপর তিনি অনেকটাই নির্ভরশীল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘আহত যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি; তিনি কেবল দুটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন, যা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের বাড়তি প্রভাব
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের রাজনীতিতে প্রভাবশালী। খামেনির মৃত্যুর পর এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা আরও কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে।
এই বাহিনীর ‘মোজাইক’ কাঠামোর কারণে শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হলেও দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব উঠে আসে এবং প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে নিহত কমান্ডারদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা
ইরানের শাসনব্যবস্থা ধর্মীয় নেতৃত্ব, নির্বাচিত সরকার এবং সামরিক শক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি নিহত হওয়া শাসনব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হলেও এখনো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সক্রিয় রয়েছে।
তবে নতুন করে উঠে আসা নেতৃত্ব আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ব্যক্তিরা
বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন:
-আহমাদ বাহিদি: রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
-ইসমাইল কানি: কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দেখভাল করছেন।
-আলিরেজা তাংসিরি: নৌবাহিনীর প্রধান, হরমুজ প্রণালি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
-মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ: সংসদের স্পিকার এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় সক্রিয়।
-গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই: বিচার বিভাগের প্রধান, কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।
-মাসুদ পেজেশকিয়ান: নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর, যদিও তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
-সাঈদ জালিলি: সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ও কট্টরপন্থী নেতা।
-আলিরেজা আরাফি: গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রভাবশালী সদস্য।
-আব্বাস আরাঘচি: অভিজ্ঞ কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্র: রয়টার্স
/অ